বরেন্দ্রভূমি, বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান, যা একসময় সমৃদ্ধ নগর সভ্যতার কেন্দ্র ছিল। এটি রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ এবং বগুড়ার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত। প্রাচীনকালে এই অঞ্চল পাল, সেন এবং মোঘল শাসকদের শাসনাধীন ছিল, যা এর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে ফুটিয়ে তোলে।
বর্তমানে বরেন্দ্রভূমির স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ অতীতের সাক্ষ্য বহন করে। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, যা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া মহাস্থানগড়, কুসুম্বা মসজিদ, এবং শিবগঞ্জের মসজিদ ও মন্দির বরেন্দ্রভূমির গৌরব বহন করে।
একসময় বরেন্দ্রভূমি ছিল ঘন সবুজে আচ্ছাদিত, কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, কৃষির প্রসার এবং নগরায়নের ফলে এর পরিবেশ পরিবর্তিত হয়েছে। গ্রীষ্মে প্রচণ্ড খরা এবং শীতকালে তীব্র ঠাণ্ডা এখানকার জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে, উন্নত সেচ ব্যবস্থা, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।
বরেন্দ্রভূমির মানুষের জীবনধারা প্রধানত কৃষিনির্ভর হলেও, আধুনিক শিক্ষা, ডিজিটাল সুবিধা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগের ফলে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে বরেন্দ্রভূমি এক নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছে, যা এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
বরেন্দ্রভূমি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জনপদ, যা রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ এবং বগুড়ার কিছু অংশজুড়ে বিস্তৃত। এটি একসময় পাল, সেন ও মোঘল শাসকদের অন্যতম শাসনকেন্দ্র ছিল।
এই অঞ্চলের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, যা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া মহাস্থানগড়, কুসুম্বা মসজিদ ও শিবগঞ্জের বিভিন্ন মন্দির বরেন্দ্রভূমির সমৃদ্ধ অতীতের সাক্ষী।